× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৬০ কোটির জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে চট্টগ্রামের আমদানিকারক

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৩ জুন ২০২৬, ২২:৪৪ পিএম । আপডেটঃ ০৩ জুন ২০২৬, ২৩:১৪ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিপ ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য আনা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ ‘মেমেই’। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ (ভাঙার জন্য) হিসেবে আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের এই বিশাল জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং আইনি জটিলতায় এটিকে সৈকতেও ভেড়ানো যাচ্ছে না। ফলে চরম বিপাকে পড়ে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসএন করপোরেশন’।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার এই কেমিক্যাল ট্যাংকারটি ভাঙার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। কিন্তু এর মাত্র ছয় দিন পর, গত ২৮ মে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এবং ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) জাহাজটিকে সরাসরি কালো তালিকাভুক্ত করে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘মেমেই’ নামক এই জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে সরাসরি জড়িত ছিল। ওয়াশিংটন কেবল এই জাহাজের ওপরই ক্ষান্ত হয়নি, এর হংকংভিত্তিক মালিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরও একটি জাহাজের ওপরও একযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

হঠাৎ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় জাহাজটির সৈকতায়ন (বিচিং) ও কাটার অনুমতি মিলছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি এড়াতে জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক পক্ষ।


"মেমেই নামের এই জাহাজটি ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছিল এবং এটি ২২ মে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এর কয়েকদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে এটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। আমরা এখনো জাহাজের পুরো অর্থ পরিশোধ করিনি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি।"
— ওমর ফারুক, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক, এসএন করপোরেশন



জাহাজটি ফেরত পাঠানো হলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের এলসি (ঋণপত্র) সংক্রান্ত জটিলতা ও ডেমারেজ মাশুল থেকে আংশিক রক্ষা পেলেও, প্রাথমিক প্রক্রিয়াগত ব্যয়ের কারণে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। শিপ ব্রেকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের স্ক্র্যাপ লোহা আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সতর্কতা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো পুরনো জাহাজ আমদানির আগে তার পূর্ববর্তী বাণিজ্যিক ইতিহাস নিখুঁতভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.