রাজধানীর উত্তর মুগদার একটি ভাড়া বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসেইন শুভর (৪৫) গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বেশ কয়েক দিন আগে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় মরদেহে পচন ধরেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে নয়টার দিকে উত্তর মুগদার আহমদবাগ এলাকার একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙে তানভীরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে আইনি প্রক্রিয়া মেনে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “দুর্গন্ধ বের হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির সহকর্মী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর হোসেইন শিক্ষাজীবন শেষে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পরিচালক হন। তাঁর বাবার নাম তবারক হোসেইন এবং তাঁদের পারিবারিক বাসা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় হলেও তানভীর মুগদার ওই ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। বাড়ির মালিক পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ঈদের দিন সর্বশেষ তাঁকে ওই বাসায় দেখা গিয়েছিল, এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ ছিল না।
নিহতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে তানভীর হোসেইনের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে, যার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে কিছুটা একাকীত্বে ভুগছিলেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।