চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নে মাদক সেবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। রবিবার রাত ১০টা থেকে শুরু করে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই চতুর্মুখী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৪ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, রবিবার রাত ১০টার দিকে বনদক্ষিণ গ্রামের এক যুবককে মাদক সেবনের অভিযোগে চরহামুয়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা আটকে রাখলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর দুই পক্ষের উত্তেজিত মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করে। প্রাথমিক বাগবিতণ্ডা একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং গভীর রাতে তা এক বড় ধরনের গোষ্ঠীগত সংঘাতের রূপ নেয়।
স্থানীয়রা জানান, রাত বাড়ার সাথে সাথে একদিকে বনদক্ষিণ ও সুলতানশী গ্রাম এবং অন্যদিকে চরহামুয়া ও বনগাঁও গ্রামের হাজারো মানুষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিমেষেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মাঝরাতে সংঘাত চরম আকার ধারণ করলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল ও অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অন্ধকারের মধ্যে উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে পুরো লস্করপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত জানান, "চার গ্রামের মধ্যে রাতের অন্ধকারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৪ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আমরা ইতোমধ্যে ছয়জনকে আটক করেছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
মাদককে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে এমন আকস্মিক ও সংগঠিত সহিংসতা স্থানীয় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা ও সহিংসতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিত করতে এলাকায় চিরুনি অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
