× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চিড়িয়াখানার লেকে বড়শিতে আটকা পড়ছে ২৫–৩০ কেজির মাছ, কীভাবে ধরবেন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

৩১ মে ২০২৬, ১৭:১২ পিএম । আপডেটঃ ৩১ মে ২০২৬, ১৮:২৮ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার ৫৬ একরের বিশাল লেকপ্রাঙ্গণ। প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবারে যান্ত্রিক শহরের কোলাহল এড়াতে এবং বড়শিতে বিশাল আকৃতির মাছ শিকারের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে এখানে ভিড় করেন শত শত সৌখিন মৎস্যশিকারি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার বিশাল দুটি লেকে বড়শি দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের দানবীয় মাছ শিকারের অভিনব সুযোগ তৈরি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়মিত অবমুক্ত করা রুই, কাতলা, চিতল ও পাঙাশসহ নানা প্রজাতির মাছ শিকারের জন্য প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম শুক্রবার এই বিশেষ আয়োজন করে থাকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকিটের বিনিময়ে যে কেউ দুটি বড়শি নিয়ে এই রোমাঞ্চকর মৎস্য শিকারে অংশ নিতে পারছেন, যা একই সাথে বিনোদন ও চিড়িয়াখানার রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

দুই হাজার টাকায় জোড়া বড়শির টিকিট

চিড়িয়াখানার দক্ষিণ লেকের আয়তন ৩২ একর এবং উত্তর লেকের আয়তন ২৪ একর। এই বিশাল জলরাশিতে মৎস্য অধিদপ্তর তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিনামূল্যে পোনা অবমুক্ত করে, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হয়। জালের ব্যবহার না হওয়ায় এখানে মাছগুলো বিশালাকার ধারণ করার সুযোগ পায়।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "প্রতি ইংরেজি মাসের প্রথম শুক্রবার ভোরে আমাদের প্রতিনিধিরা মূল ফটকে উপস্থিত থাকেন। মৎস্যশিকারিরা সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে চলে আসেন এবং দুই হাজার টাকার বিনিময়ে একটি টিকিট সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ দুটি বড়শি ব্যবহারের সুযোগ পান। কেউ দেরিতে এলেও বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়।"

তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ জন শিকারি আসেন, তবে কোনো কোনো মাসে এই সংখ্যা ৭০ থেকে ৭৫ জনেও পৌঁছায়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১৮৬ দশমিক ৬৩ একরের এই চত্বরে ১৯৭৮ সালে লেক দুটির খননকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৮০ সালে। প্রথমদিকে বছরে একবার জাল দিয়ে মাছ ধরা হলেও ১৯৯০ সাল থেকে বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের নিয়ম চালু হয়। শুরুতে মাসে চারবার এই সুযোগ দেওয়া হলেও বন্যপ্রাণীদের বিচরণ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরবর্তীতে তা কমিয়ে মাসে মাত্র একবারে নামিয়ে আনা হয়।

চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, "লেকে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছ যেমন আছে, তেমনি ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের মাছ ধরা পড়া খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে লেকে অতিরিক্ত বড় মাছ থাকলে ছোট মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই সর্বশেষ ২০২২ সালে আমরা জাল দিয়ে মাছ ধরে সেই রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছিলাম; ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আবারও হয়তো দ্রুতই জাল দিয়ে বড় মাছ আহরণ করা হবে।"

মৎস্যশিকারিদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এখানে ভাগ্য একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। কেউ হয়তো সারাদিন অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বড় মাছের দেখা পান না, আবার কেউ কেউ একাধিক দানবীয় মাছ শিকার করে ঘরে ফেরেন। যান্ত্রিক নগরীর কর্মব্যস্ততার মাঝে মিরপুর চিড়িয়াখানার এই উন্মুক্ত মৎস্য শিকারের আয়োজন শহরের সৌখিন শিকারিদের জন্য এখন এক অন্যতম আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর উৎসবে পরিণত হয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.