× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চট্টগ্রামের পশুর হাটে ‘পিঙ্ক মহিষের’ চমক, ক্রেতা টানতে ফ্রি খাসির ঘোষণা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৬ মে ২০২৬, ০২:০০ এএম । আপডেটঃ ২৬ মে ২০২৬, ০২:০১ এএম

চট্টগ্রাম নগরের নুর নগর হাউজিং পশুর হাটের মূল আকর্ষণ গোলাপি মহিষ। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। কোরবানির পশুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী পশুর হাট—নূরনগর হাউজিং এলাকায় এখন উপচে পড়া ভিড়। তবে প্রথাগত কালো বা ধূসর রঙের পশুর ভিড়ে এবারের হাটের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে বিরল গায়ের রঙের দুটি ‘গোলাপি মহিষ’। স্থানীয়দের কাছে ‘পিঙ্ক মহিষ’ এবং মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের নামানুসারে ‘ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই মহিষ দুটিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে। ফটিকছড়ির খামারি মো. নুরুল আলমের যত্নে বেড়ে ওঠা এই জোড়া মহিষের দাম হাঁকানো হয়েছে সাড়ে ১১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ক্রেতা আকর্ষণ করতে দুটি মহিষ একসঙ্গে কিনলে একটি খাসি সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’ দেওয়ার ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়েছেন ওই বিক্রেতা।

ভিন্নধর্মী এই মহিষ দুটির পেছনে রয়েছে খামারি নুরুল আলমের দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরের পরিশ্রম ও আবেগের গল্প। একসময় কৃষিকাজ করলেও চার-পাঁচ বছর আগে তিনি গবাদিপশু লালন-পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিন বছর আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে খবর পেয়ে ভৈরব থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় মহিষ দুটি সংগ্রহ করেন তিনি।

অদ্ভুত গায়ের রঙের কারণে এই প্রাণীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন খামারি। নুরুল আলম বলেন, "সবাই তো মহিষ দুটিকে ট্রাম্প বলতেছেন, কিন্তু আমি কোনো নাম দিইনি। মহিষ দুটি খুব সংবেদনশীল। তাই লালন-পালনের সময় খুব সতর্ক ছিলাম। মানুষের মতিগতি বোঝা যায় না, তাই তিন বছর ধরে বাইরের কাউকে এদের দেখতে দিইনি। নিজের খামারেই রাখতাম সারাক্ষণ। গরমের দিনে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা ছিল, আদর-যত্নের কমতি ছিল না।"

সাধারণত মহিষের গায়ের রং ঘন কালো হলেও এই ব্যতিক্রমী গোলাপি রঙের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি কোনো কৃত্রিম রং বা প্রাণীর শারীরিক অসুস্থতা নয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, "এগুলো আসলে অ্যালবিনো মহিষ। ত্বকে মেলানিন নামক একধরনের রঞ্জক পদার্থের অসামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থিতির কারণে মহিষের গায়ের রং কালো না হয়ে সাদা বা গোলাপি হয়। এটি মহিষের কোনো রোগ বা অস্বাভাবিকতা নয়।"

গত বুধবার গ্রামের খামার থেকে চট্টগ্রাম নগরের পশুর হাটে মহিষ দুটি নিয়ে আসার পর থেকেই দরদামের ধুম পড়েছে। বর্তমানে একটির দাম ৬ লাখ এবং অন্যটির সাড়ে ৫ লাখ টাকা ধরে মোট সাড়ে ১১ লাখ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা এখন পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম তুললেও খামারি অন্তত ১০ লাখ টাকা হলে মহিষ দুটি বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন।

খামারি নুরুল আলম বলেন, "অনেক আদর-যত্ন করে মহিষ দুটি লালন-পালন করেছি। খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করতে অনেক টাকা খরচ আর পরিশ্রম হয়েছে। তাই সাড়ে ১১ লাখ টাকা দাম রেখেছি। যদি কোনো ক্রেতা একসঙ্গে দুটি মহিষ কেনেন, তাহলে একটি খাসি বিনা মূল্যে দেব।"

গোলাপি মহিষ দেখতে হাটে কৌতূহলী মানুষের ঢল নামলেও সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রামের পশুর বাজার এখনো আশানুরূপ জমেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যাপারীরা অলস সময় পার করছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও চূড়ান্ত ক্রয়ের হার এখনো কম।

৩৫টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, "গত বছর এমন সময়ে হাটে মানুষ আর মানুষ, কিন্তু এবার দেখেন ফাঁকা। ৩৫টি গরুর মধ্যে মাত্র ৭টি বিক্রি করতে পেরেছেন। দেশ-বিদেশের পরিস্থিতি মিলিয়ে মানুষের কাছে টাকাপয়সা কম মনে হচ্ছে। তাই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় নেই।"

তবে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা এবার বেশি এবং শেষ মুহূর্তে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশাবাদী হাট ইজারাদারেরা। কর্ণফুলী পশুর হাটের ইজারাদার মো. ইব্রাহিম জানান, শহরে সাধারণত ঈদের দুই-তিন দিন আগে মূল বেচাবিক্রি শুরু হয়, কারণ আগেভাগে গরু কিনে রাখার ঝামেলার কারণে মানুষ শেষ মুহূর্তেরই অপেক্ষা করে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.