× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঘুমধুম সীমান্তে পর পর মাইন বিস্ফোরণ, তিন বাংলাদেশি চাষি নিহত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬, ১৯:২৬ পিএম । আপডেটঃ ২৪ মে ২০২৬, ১৯:২৯ পিএম

বান্দরবান ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা। ছবি: ফাইল ছবি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে একটি ফলের বাগানে পর পর তিনটি শক্তিশালী স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি ক্ষুদ্রনৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীভুক্ত চাষি নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখার ভেতরে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে ঘটনাস্থল থেকে উড়ে যাওয়া ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করার সময় এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মাইন বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিরা হলেন—নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ার অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)।

উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে নিহতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ সম্পূর্ণ উড়ে গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দুপুরের দিকে পাহাড়ের ফলের বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ প্রথম মাইনটি বিস্ফোরিত হলে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। তাঁর আর্তনাদ শুনে অন্য সঙ্গীরা যখন তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে যান, তখন সেখানে দ্বিতীয় মাইনের বিস্ফোরণ ঘটে।

পরপর দুটি বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি দেখতে ও আহতদের বাঁচাতে অন্য সঙ্গীরা এগিয়ে গেলে তৃতীয় মাইনটি বিস্ফোরিত হয়। উপর্যুপরি এই তিনটি বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাগানে কর্মরত অন্য শ্রমিকেরা প্রাণভয়ে পাড়ায় এসে খবর দেন। পরে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত পাহাড়ের ফল ও সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন মাইন বিস্ফোরণ ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানিয়দের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা বলেন, "ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটিই তাঁদের জীবন-জীবিকার একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন, যাঁদের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের ঘটনাগুলোর পর আজকের এই তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।"

বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এত কাছাকাছি কারা এই মাইন কার্পেটিং বা শক্তিশালী বিস্ফোরক স্থাপন করেছে, তা নিয়ে সীমান্তবাসীর মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির দফাদার সৈয়দ আলম এবং ঘুমধুমের গ্রাম পুলিশ রূপম বড়ুয়া বলেন, "ঘটনা ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় হলেও যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি শূন্যরেখার ভেতরে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে এত শক্তিশালী স্থলমাইন কারা স্থাপন করেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ, মৃতরা সবাই সাধারণ বাগানচাষি।"

বিস্ফোরণের পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যরা টহল বৃদ্ধি করেছেন। লাশগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল বলেন, "মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত। লাশ তিনটি উদ্ধার করে রেজুপাড়া বিজিবির সীমান্তচৌকিতে আনা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হবে।"

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.