× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঈদে লক্ষ মানুষের ট্রেনযাত্রার ইচ্ছা, সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ: কমলাপুরে রেলমন্ত্রী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৪ মে ২০২৬, ১৫:৩১ পিএম । আপডেটঃ ২৪ মে ২০২৬, ১৫:৪০ পিএম

রোববার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছুক লক্ষ লক্ষ যাত্রীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন রেলওয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রায় ট্রেনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে সব যাত্রীকে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে দুই-একটি ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা বিপর্যয় ঘটলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী ও সাধারণ যাত্রীরা।

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে রেলের প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে আজ সকালে কমলাপুর স্টেশনে যান রেলমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রেলের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।

রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, "ঈদের ছুটিতে ট্রেনে বাড়ি ফেরার জন্য মানুষের প্রচুর চাহিদা থাকে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যাঁরা যেতে চান, সেখানে ট্রেন জার্নিটা ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছে একটা আলাদা প্রাধান্য পায়। এই চাহিদার কারণে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও তৈরি হয়ে যায়। কারণ, যাত্রীর চাহিদা প্রচুর, কিন্তু যাত্রীদের যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যে ট্রেনের সংখ্যা সেটা পর্যাপ্ত নয়।"

মন্ত্রী আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন ২৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে এই সক্ষমতা আরও ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।

আজ সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে তিনটি ট্রেনের সূচিতে কিছুটা বিলম্ব দেখা গেছে। এর পেছনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, "অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ট্রেন লাইনের ওপর প্রচুর খড় (ধানের অবশিষ্ট অংশ) শুকানোর জন্য দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে চাকা স্লিপ করে। ট্রেনটি উদ্ধার করে আবার সচল করে নিয়ে আসতে হয়েছে। এই কারণে দুটি বা তিনটি ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা বিপর্যয় ঘটেছে—একটি ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং অন্যটি দুই ঘণ্টার মতো।"

সাময়িক এই বিপর্যয় বাদে স্টেশনের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও সিটিং ক্যাপাসিটি বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এবার কড়া নজরদারির কারণে ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রীকে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে সকালের দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চোখে-মুখে ছিল বাড়ির ফেরার আনন্দ, তবে কিছু ট্রেনের বিলম্বের কারণে কাউন্টারগুলোতে কিছুটা উষ্মাও লক্ষ্য করা গেছে।

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী সেলিম রেজা দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে রাজশাহী কমিউটারের টিকিট পান। তিনি বলেন, "ভেবেছিলাম বনলতা এক্সপ্রেসে যাব, কিন্তু অনলাইনে টিকিট কাটতে পারিনি। এখন অনেক কষ্টে আন্তনগর ট্রেনের টিকিট কাটলাম। সেটি ১২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও এখন সাড়ে ১২টা বাজে, তবু এখনো ট্রেন আসেনি।"

অন্যদিকে, আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখা কামাল উদ্দিন নামের আরেক যাত্রী তাঁর দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে স্বস্তিতেই স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। ভিড় কম থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আগের মতো ভিড় নেই। অনেকটা স্বস্তির মনে হচ্ছে। আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম। ঈদে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে হবে। সে জন্য একটু আগেই যাচ্ছি।"

রাজশাহী কমিউটার ট্রেনটি সময়মতো প্ল্যাটফর্মে না পৌঁছানো এবং ছাড়তে দেরি হওয়ার বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. কবীর উদ্দীন বলেন, "এই ট্রেনটি স্বাভাবিকই একটু দেরিতে পৌঁছায়। আজকে আসতে আরও দেরি হচ্ছে। এটি আসার সঙ্গে সঙ্গে আবার ছেড়ে যায়।"

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটি পুরোপুরি শুরু হলে স্টেশনে যাত্রীদের চাপ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রুখতে লাইন তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.