শিশু নির্যাতনের একের পর এক ঘটনার মধ্যেই রাজধানীর কলাবাগানে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২২ মে) রাতে কলাবাগান থানাধীন সেন্ট্রাল রোডের একটি বাসায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশু ও গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সেন্ট্রাল রোডের একই এলাকার পাশাপাশি বাসার বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে ওই বৃদ্ধ শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে এবং পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তারা অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেন।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিশুটির পাশের বাসার বাসিন্দা। রাতে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাসায় নিয়ে ওই ব্যক্তি ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে থানায় মামলা করে। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।"
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আজ শনিবার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রেখে পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিশুদের ওপর পৈশাচিক যৌন সহিংসতার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যখন বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানের দাবি জানাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজধানীর বুকেই এই ঘটনা ঘটল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির অন্যতম কারণ। কলাবাগানের এই ঘটনাটি শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পাড়া-মহল্লায় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও জোরালোভাবে সামনে এনেছে।