× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলি, আতঙ্কে ক্ষেত-খামারে যাচ্ছেন না কৃষকেরা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২১ মে ২০২৬, ০১:১০ এএম । আপডেটঃ ২১ মে ২০২৬, ০১:১১ এএম

সিলেটের গোয়াইনঘাটের সোনারহাট সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। প্রতীকী ছবি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে আকস্মিক পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত সোমবার বিকেলের এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে সীমান্তের কাছাকাছি নিজেদের ক্ষেত-খামারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


"আমরা এখনো ভয়ে ভয়ে আছি, যদি আবার গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। চারিদিকে থমথমে ভাব। বিজিবি আপাতত সীমানার কাছে যাইতে নিষেধ করেছে। জানের মায়া তো সবারই আছে, তাই এই ভয়ে সীমান্তের কাছে কেউ ক্ষেত-খামারেও যাচ্ছে না।"
— হেলাল উদ্দীন, বাসিন্দা, সোনারহাট সীমান্ত এলাকা।


বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে ভারতীয় সীমান্ত থেকে আকস্মিকভাবেই গুলি ছুড়তে শুরু করে বিএসএফ। কোনো উসকানি ছাড়াই চালানো এই গুলিবর্ষণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্ত অবস্থান নেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সিলেটের ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, "বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে। বিজিবি দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ায় দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।" তবে ঘটনার বিষয়ে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নয়াদিল্লি ও ঢাকার উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতীয় সীমান্তে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৪ জনই মারা গেছেন বিএসএফের গুলিতে। চলমান ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের প্রথম তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে আরও অন্তত সাতজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনজনই মারা গেছেন গত দেড় সপ্তাহে।


"এত কম সময়ের ব্যবধানে এতগুলো গুলি ও মৃত্যুর ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালানোর পরও যেহেতু সীমান্ত হত্যা থামছে না, সেজন্য এখন বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাওয়া।"
— নূর খান লিটন, মানবাধিকারকর্মী।


ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ সীমান্তে চাপ ও উত্তেজনা দৃশ্যত বাড়ছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা গত জানুয়ারিতে প্রায় দুই হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের তথ্য নিশ্চিত করার পর, পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সীমান্তে নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিতর্কিত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান এবং এর জেরে সীমান্তে একের পর এক গোলাগুলির ঘটনা দুই প্রতিবেশীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করছে।

যদিও বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো দ্বিপাক্ষিক সংবেদনশীল সংকটগুলোর স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে সরকার।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.