বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হঠাৎ উসকানিমূলক গুলি ছুড়লে তার তাৎক্ষণিক ও কড়া জবাব দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে বিএসএফের আকস্মিক গুলিবর্ষণের পর বিজিবি পাল্টা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে বিজিবির এই দৃঢ় ও পেশাদার পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীটি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই সোনারহাটসহ সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় কোনো উসকানি ছাড়াই বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিকে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি জোয়ানরা মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা গুলি চালিয়ে এর কড়া জবাব দেয়।
পাল্টা জবাবের পর বিএসএফ পিছু হটে এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন বলেন, "বিএসএফের গুলি ছোড়ার পর পরই আমাদের সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় আমাদের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।"
সীমান্তে এই ধরনের আকস্মিক গুলিবর্ষণের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রত্যুত্তর বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সাহায্য করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে স্থায়ী স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।