× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আবাসিক হোটেলে থাকছে গরু, দিনে ভাড়া কত?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৯ মে ২০২৬, ১৯:২৩ পিএম । আপডেটঃ ২০ মে ২০২৬, ০১:০৬ এএম

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুরের বারো আউলিয়া এলাকার আবাসিক হোটেলে সারিবদ্ধভাবে রাখা পশুর যত্ন নিচ্ছেন খামারের শ্রমিকেরা। ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাট থেকে কেনা পশুর নিরাপদ আশ্রয় ও যত্নে এক অভিনব সমাধান হয়ে উঠেছে আশানুর ইসলামের ‘গরুর আবাসিক হোটেল’। দূরদূরান্ত থেকে আসা পাইকার ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে রংপুর নগরের বারো আউলিয়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই হোটেলে এখন পশুর উপচে পড়া ভিড়। ঝড়-বৃষ্টি ও তীব্র রোদে পশুর শারীরিক ক্লান্তি দূর করা, চুরির ঝুঁকি কমানো এবং নিরাপদ পরিবহনের নিশ্চয়তা মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেপারিদের কাছে এটি এখন আস্থার অন্যতম প্রতীক। ১০ বছর আগে পারিবারিক উদ্যোগে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী সেবাটি করোনাকালীন স্থবিরতা কাটিয়ে এবার কোরবানির মৌসুমে স্থানীয় অর্থনীতি ও পশুবিক্রি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বাবা আনছার আলীর সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কিনতে গিয়েই মূলত এই ব্যবসার ধারণা পেয়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সী আশানুর ইসলাম। তিনি দেখেছিলেন, অনেক সময় হাটে বিক্রির পর বা দূরবর্তী গন্তব্যে পাঠানোর আগে পশুকে রাখার মতো উপযুক্ত জায়গা থাকে না, রোদ-বৃষ্টিতে অসুস্থ হয়ে অনেক সময় দামি পশু মারাও যায়। সেই অভিজ্ঞতা ও বাবার পরামর্শে ১০ বছর আগে রংপুর মডার্ন মোড় এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই আবাসিক হোটেল, যা বছর দেড়েক আগে মহাসড়কের পাশে ৫০ শতক ভাড়া জমিতে বড় পরিসরে স্থানান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল টিনের শেডের নিচে বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও বৈদ্যুতিক পাখার নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে শত শত গরু। সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সেখানে নিয়োজিত শ্রমিকেরা প্রতিটি পশুকে সময়মতো খড় ও ভুসি খাইয়ে যত্ন নিচ্ছেন। সাধারণ সময়ে এখানে প্রতি গরুর জন্য দৈনিক ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও কোরবানির ঈদ ঘিরে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এখন নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা।

আশানুরের ভাই ও হোটেলের পরিচালক শাহিন মিয়া বলেন, "আমাদের এখানে ব্যবসায়ীরা মূলত নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি দেখেন। আমরা এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকি এবং বিগত এক দশকে এখান থেকে কোনো পশু হারিয়ে যাওয়া বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।"

চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারেরা রংপুর অঞ্চলের শঠিবাড়ি, লালবাগ, বেদগাড়ি কিংবা বুড়িরহাটের মতো বড় বড় পশুর হাট থেকে প্রতিদিন শত শত গরু কিনে এই হোটেলে রাখছেন। চট্টগ্রামের বেপারি সুরুজ মিয়া তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "আগে গরু কেনার পর পরিবহন নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো, অনাহারে-টানাটানিতে পশুগুলো অসুস্থ হয়ে যেত। এখন এই আবাসিক হোটেলে রেখে আমরা সুবিধাজনক সময়ে সুস্থ-সবল পশু ট্রাকে করে গন্তব্যে পাঠাতে পারছি।"

ব্যবসায়িক সুসম্পর্কের কারণে অনেক সময় নগদ টাকার সংকটে পড়া বেপারিদের তাৎক্ষণিক ধার দিয়েও সহযোগিতা করেন এই হোটেলের উদ্যোক্তারা। এই উদ্যোগকে উত্তরবঙ্গের পশুপালনের প্রসারে একটি চমৎকার অনুঘটক হিসেবে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরাও।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, "এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ভালো একটি উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন হাটে কেনা গরু এখানে নিরাপদে রাখছেন এবং পরিমাণমতো হলে ট্রাকে তুলছেন। এর ফলে পশুগুলো যেমন কম ক্লান্ত হচ্ছে, তেমনি কোরবানির পশুর গুণগত মান ও সুস্থতা বজায় থাকছে।"

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.