ওমানে অকালপ্রয়াত চার ভাই রাশেদ, শাহেদ, সিরাজ ও শহিদ। যাঁদের মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে রহস্যজনক এক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ওমানের আল বাতিনাহ প্রদেশের আল মোছানা এলাকায় একটি পার্কিং করা প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে তাঁদের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। শুক্রবার দেশে ফিরে দুই ভাইয়ের বিয়ে করার কথা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দের প্রস্তুতি এখন চার ভাইয়ের মরদেহ ফেরার প্রতীক্ষায় রূপ নিয়েছে।
নিহতরা হলেন—রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া এলাকার মরহুম আবদুল মজিদের চার ছেলে মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এলেও অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এখনো জানানো হয়নি তাঁর চার সন্তানের চিরবিদায়ের সংবাদ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বড় দুই ভাই সিরাজ ও শহিদের আগামী ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল। তাঁদের বিয়ের জন্য কনে দেখা এবং যাবতীয় প্রস্তুতিও চলছিল। মঙ্গলবার তাঁরা কেনাকাটা করতে ছোট দুই ভাই রাশেদ ও শাহেদকে নিয়ে মার্কেটে বের হয়েছিলেন। পথে একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে গাড়িতে ওঠার পর আর ফেরেননি তাঁরা। গাড়ির ভেতরেই তাঁদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
নিহতদের ছোট ভাই মো. এনাম বলেন, "আমার দুই ভাইয়ের শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতে তাঁরা সবাই বের হয়েছিলেন। খাবারে বিষক্রিয়া নাকি গাড়ির এসি বিস্ফোরণ—ঠিক কী কারণে তাঁরা মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওমান পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।"
লালানগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন জানান, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদ বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। অন্য ভাই শাহেদও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। বাকি দুই ভাই নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়া স্তব্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, নিহতদের মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যুর খবর সইবার ক্ষমতা তাঁর নেই বলেই স্বজনরা বিষয়টি তাঁর কাছে গোপন রেখেছেন। বর্তমানে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির এসির গ্যাস লিকেজ বা বিষক্রিয়া থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ওমান পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
