× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা

গোপালগঞ্জে শোকের মাতম, বিচারের দাবি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৯ মে ২০২৬, ২১:৪০ পিএম । আপডেটঃ ০৯ মে ২০২৬, ২১:৪১ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর গোপালগঞ্জের পাইককান্দি গ্রামে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবা ফোরকান মোল্লার হাতে স্ত্রী, দুই সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজন নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের নিজ জেলা গোপালগঞ্জের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। অভাবের সংসারে তিলে তিলে বড় করা সন্তানদের এমন করুণ মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ।

ভোর সাড়ে ৫টায় ঘাতক ফোরকান মোল্লা নিজেই তার পরিবারকে ফোনে সবাইকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ কথা জানিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), শ্যালক রসুল মোল্লা (১৮), বড় মেয়ে মিম আক্তার (১৪), মেজো মেয়ে হাবিবা (১০) ও মাত্র দুই বছরের শিশুকন্যা ফারিয়া। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক, যার বাড়িও গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর এলাকায়।

সরেজমিনে পাইককান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়িতে শত শত মানুষের ভিড়। সন্তানদের হারিয়ে পাগলপ্রায় মা ফিরোজা বেগম (৬০) বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, "আমার বাজান (রসুল) গতকালই নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। হাসতে হাসতে বোনের বাসায় গেল, কে জানত ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! তোরা আমার কলিজার ধনরে আইনা দে।"

নিহতদের চাচা ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ খবির মোল্লা জানান, অভাবের সংসারে শাহাদাত মোল্লা ও ফিরোজা দম্পতি তাদের সাত সন্তানকে অনেক কষ্টে বড় করেছিলেন। রসুল গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে শারমিনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। ঘাতক ফোরকান তার ভাইকে ফোন করে বলেন, "সবাইকে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না।" এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

খবির মোল্লা বলেন, "সন্তান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ, সেই সন্তানকে বাবা হয়ে কীভাবে মারতে পারে? সে কি মানুষ? আমরা ওই খুনি ফোরকানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।"

বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো গাজীপুর মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। পুলিশ ঘাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনা কেবল একটি পরিবার নয়, বরং সামাজিক সম্পর্কের চরম অবক্ষয় নিয়ে পুরো জেলায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.