দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন এবং পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজধানীসহ সারা দেশের থানাগুলোতে কোনো ধরনের দালালের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে থানায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
শনিবার দুপুরের এই পরিদর্শন ছিল সম্পূর্ণ অঘোষিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। তিনি ডিউটি অফিসারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং থানার শৃঙ্খলা ও পরিবেশ যাচাই করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহকৃত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মন্ত্রী সরাসরি হাজতখানায় গিয়ে সেখানকার পরিবেশ, ধারণক্ষমতা এবং বন্দিদের জন্য নির্ধারিত খাবারের মান যাচাই করছেন। বিশেষ করে হাজতখানার ওয়াশরুম ও ফ্যানের সুবিধার মতো মানবিক বিষয়গুলোর খোঁজ নেন তিনি। পুলিশের আবাসন ব্যবস্থা বা মেস পরিদর্শন করে সদস্যদের জীবনযাত্রার মান নিয়েও কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ থানায় প্রভাব বিস্তার করে কিংবা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তার দায়ভার ওসির ওপরই বর্তাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির সামান্যতম প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি পুলিশ সদস্যদের সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সরাসরি মাঠপর্যায়ের কেন্দ্রগুলো এভাবে তদারকি করা হলে পুলিশি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন কেবল একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের আস্থা ফেরানোর একটি জোরালো পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।