× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৫০২ ভরি স্বর্ণ প্রসঙ্গে নিপুণ রায় চৌধুরীর সাফাই

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪০ পিএম । আপডেটঃ ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪১ পিএম

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় মসজিদের সংস্কার কাজে অনুদান প্রদান শেষে বক্তব্য রাখছেন নিপুণ রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী তাঁর হলফনামায় উল্লিখিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে জনমনে সৃষ্ট কৌতূহলের জবাব দিয়েছেন। ৫০২ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি নিজেকে ‘রাজকপালী’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, এই সম্পদের প্রতিটি অংশ তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন এবং তা সততার সঙ্গে কর নথিতে উল্লেখ করেছেন।

রোববার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বায়তুন নূর জামে মসজিদের সংস্কারকাজে অনুদান প্রদানকালে নিপুণ রায় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে নিপুণ রায় বলেন, “জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে আল্লাহর দান। আমার নিজ পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি—দুই দিক থেকেই আমি রাজকপাল নিয়ে এসেছি। বিয়ের আগে ও পরে পিতৃকুল, মাতৃকুল এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া এসব উপহার আমি আমার সম্পদ বিবরণীতে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি। এটি কোনো গোপন তথ্য নয়, ২০২৪ সালের জুন মাসের আয়কর নথিতেও এর উল্লেখ ছিল।”

সম্পদ ঘোষণার পাশাপাশি নিপুণ রায় তাঁর দায়দেনার বিষয়টিও সামনে আনেন। তিনি জানান, তাঁর একটি ফ্ল্যাট ও দুটি গাড়ি রয়েছে। একটি গাড়ি তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়ে কিনেছিলেন, যা ইতোমধ্যে পরিশোধিত। তবে বর্তমানে সিটি ব্যাংকে তাঁর ৫০ লাখ টাকার ‘কার লোন’ এবং ২০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে। তাঁর মতে, দায় ও সম্পদ উভয়েরই প্রকাশ ঘটানো তাঁর রাজনৈতিক সততারই বহিঃপ্রকাশ।

বক্তব্যে নিপুণ রায় তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরিদের সততার দৃষ্টান্ত টেনে আনেন। তিনি তাঁর বাবা, বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং শ্বশুর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি এমন পরিবারের সন্তান যেখানে আমার বাবার নামে এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগও কেউ তুলতে পারেনি। সেই আদর্শ বুকে নিয়েই আমি রাজনীতি করি।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে ভয়ে বা লোকলজ্জায় সম্পদের সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে সাহস পায় না। কিন্তু আমি দুই-তিন বছর আগেই তা ঘোষণা করেছি। এটাই আমার সততার প্রমাণ।”

নিপুণ রায়ের এই বিপুল স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চবিত্ত পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে রাজনীতিতে আসা নিপুণ রায়ের এই স্বীকারোক্তি একদিকে যেমন স্বচ্ছতার দাবি রাখে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে এই বিশাল বৈভবের ব্যবধান নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে জনগণের ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে দাবি করে ভবিষ্যতে জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.