× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, চিরকুটে শিক্ষকের নাম

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩২ পিএম । আপডেটঃ ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪২ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। রাজধানীর বাড্ডায় নিজ বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া মিমোর লাশের মরদেহের পাশ থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে নিজ বিভাগের একজন শিক্ষক ও এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকরা মিমোর বাসায় যান এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করেন। সেখানে একজন শিক্ষকের সঙ্গে মিমোর মানসিক ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত চিরকুটে মিমো লিখেছেন, “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দিও।” এই চিরকুটের বয়ান এবং ৫০ হাজার টাকার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি মিমোর আত্মহত্যার নেপথ্যে কোনো মানসিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলিং ছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গুলশান জোনের (বাড্ডা) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ওই শিক্ষার্থীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অপরাধের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমরা সকালে খবরটি পাওয়ার পরপরই মিমোর বাসায় ছুটে যাই। এমন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এই অকাল প্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” বর্তমানে মিমোর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ধরন এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে। সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের পবিত্রতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার এই অবক্ষয় সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।

মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি একজন তরুণ স্বপ্নদ্রষ্টার অসময়ে ঝরে পড়ার করুণ আখ্যান। চিরকুটে রেখে যাওয়া শব্দগুলো যদি কোনো গভীর অবিচারের সাক্ষী হয়, তবে তার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। মিমোর এই নিস্তব্ধ বিদায় আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.