× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রামপুরায় বাইক চোরচক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৭ মোটরসাইকেল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫১ পিএম । আপডেটঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৩ পিএম

রামপুরা থানা পুলিশের অভিযানে উদ্ধারকৃত ৭টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তারকৃত চোরচক্রের চার সদস্য ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরায় একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের এক বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত কয়েক দিনের অভিযানে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সাতটি দামী চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ এপ্রিল রামপুরার বনশ্রী সি-ব্লকের ৬ নম্বর সড়ক থেকে মোঃ সাহাল বিন রফিক নামের এক ব্যক্তির ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল চুরি হয়। রামপুরা থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ বনশ্রী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরচক্রের অবস্থান শনাক্ত করে।

প্রাথমিক অভিযানে নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ডাঙ্গা বাজার থেকে প্রথম অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় বাদীর সেই চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি।

গ্রেফতারকৃত জহিরুলকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে অলি উল্লাহ (২৮) নামের চক্রের আরেক সদস্যকে একটি অ্যাপাচি আরটিআর বাইকসহ গ্রেফতার করা হয়। নরসিংদীর ডাঙ্গা বাজারের ‘খান মটরস’ নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে আরও চারটি চোরাই মোটরসাইকেল (এমটি-১৫, এক্স-ব্লেড, সুজুকি জিক্সার ও ফেজার) উদ্ধার করা হয়। চোরাই পণ্য কেনাবেচার অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক সফিউল্লাহ খানকে (২৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের অন্য সদস্য গাজী সাগরকে (২৭) একটি ধুসর সাদা রঙের এমটি-১৫ মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।

ডিসি মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ জানান, "এই চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে কাজ করছি। চুরির পর বাইকগুলো নরসিংদী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কৌশলে বিক্রি করা হতো। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।”

রাজধানীতে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় এই অভিযান সাধারণ নাগরিকদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল গ্রেফতার নয়, বরং চোরাই বাইক কেনাবেচার যে চোরাবাজার জেলা পর্যায়ে গড়ে উঠেছে, সেখানে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। মালিকদেরও তাদের বাহনের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ‘জিপিএস ট্র্যাকার’ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.