ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ মার্কেটে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অবৈধ স্থাপনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির খবরের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া এ পদক্ষেপ স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নিজে মার্কেটের প্রতিটি ব্লক ঘুরে দেখেন এবং দোকান বরাদ্দ, ভাড়া আদায়ের রসিদ ও সরকারি নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগৃহীত রসিদগুলো সরকারি নির্ধারিত হারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে জানতে পারেন, অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া সরকারি হারের কয়েকগুণ বেশি আদায় করা হচ্ছিল। এ ছাড়া মার্কেটের মূল নকশা ও অনুমোদনের বাইরে অসংখ্য অবৈধ দোকান গড়ে তোলারও প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে জেলা প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি নিয়ম ভেঙে যারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়েছেন এবং অবৈধ দোকান স্থাপন করেছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের সম্পত্তি সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষায় এখন থেকে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের লুটপাট বন্ধ করা হবে।
কেরানীগঞ্জের এ অভিযান শুধু একটি বাজারের দুর্নীতি উদঘাটন নয়, বরং সরকারি সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবহার ও জবাবদিহিতার প্রতি প্রশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য ও প্রশাসনের সদিচ্ছার সমন্বয়ে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব—এই অভিযান তা-ই প্রমাণ করে। তবে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, এটি যেন কেবল একদিনের অভিযান না হয়ে ওঠে, বরং জবাবদিহিমূলক স্থায়ী ব্যবস্থার পথ খুলে দিক।