× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৫ পিএম । আপডেটঃ ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৫ পিএম

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে একজন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ ও চারাগাছ তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কয়েক কোটি কৃষকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সরাসরি সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির পথ সুগম হলো।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ১৫ জন কিষান-কিষানির হাতে ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’ এবং গাছের চারা তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করেন। প্রথম ধাপে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর টাঙ্গাইলে এটিই তাঁর প্রথম সফর, যা কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

প্রস্তাবিত এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কেবল পেশাগত স্বীকৃতিই পাবেন না, বরং মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরাসরি নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সহজ শর্তে ঋণ, সেচ সুবিধা এবং প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘কৃষিবিমা’। ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা। সরকার আগামী চার বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের ১১টি পয়েন্টে বর্তমানে ‘প্রি-পাইলটিং’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে বড় পরিসরে পাইলটিং এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী বিতরণ শুরু হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত ‘কৃষি মেলা’র উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাব বোধ করছিলেন। এই কৃষক কার্ড কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ড নয়, বরং এটি কৃষকের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি। যদি স্বচ্ছতার সাথে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে তা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.