× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাজশাহীতে অ্যাপে তেল নিতে এসে ‘ধরা’ পড়ছেন চালকরা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২ পিএম । আপডেটঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২ পিএম

রাজশাহীতে 'ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট' অ্যাপে একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়ায় এক বাইকারকে সরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। সোমবার ১৩ এপ্রিল, বোসপাাড়া। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধ ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপের ব্যবহার। জেলা প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগের প্রথম দিনেই ধরা পড়েছেন অন্তত ২০ জন চালক, যারা নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয়বার তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এই ডিজিটাল নজরদারির মুখে চালকদের মধ্যে যেমন স্বস্তি দেখা গেছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।

সোমবার বেলা পৌনে তিনটা। নগরের বোসপাাড়ার মেসার্স আফরিন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় এক চাঞ্চল্যকর চিত্র। একজন মোটরসাইকেল চালক জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়ালে পাম্প কর্মী অ্যাপে তাঁর গাড়ির নম্বর যাচাই করেন। মুহূর্তে দেখা যায়, তিনি আগের দিন সন্ধ্যায় তেল নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ দিনের আগে পুনরায় তেল পাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মেসার্স আফরিন ফিলিং স্টেশনের পয়েন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সানি জানান, সকাল থেকে এভাবে অন্তত ১৫-২০ জন চালককে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা নিয়ম ভেঙে বারবার জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।

জেলা প্রশাসনের সূত্রমতে, এই ব্যবস্থায় বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। একজন মোটরসাইকেল চালক প্রতি পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার এবং প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস চালক ২ হাজার টাকার জ্বালানি নিতে পারছেন। অ্যাপে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রবেশ করানোর সাথে সাথে ওই যানের জ্বালানি সংগ্রহের ইতিহাস ফুটে উঠছে। একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ দিনের জন্য ওই নম্বরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ব্লক’ হয়ে যাচ্ছে। তবে স্ক্যানার সুবিধা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় বর্তমানে ম্যানুয়ালি তথ্য ইনপুট দেওয়া হচ্ছে।

নতুন এই উদ্যোগকে সাধারণ গ্রাহকরা স্বাগত জানালেও কেউ কেউ শাস্তির দাবি তুলেছেন। লাইনে থাকা মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ বলেন, "শুধু ফেরত পাঠালে হবে না, নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।" তবে পেশাগত কারণে যাদের দৈনিক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, তারা এই রেশনিং পদ্ধতি নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। গ্রামীণফোনের বিপণন কর্মকর্তা মো. জাহিদ জানান, প্রতিদিন তাকে ১০০ কিলোমিটারের বেশি বাইক চালাতে হয়, ফলে পাঁচ দিনের রেশনিং পদ্ধতি তার মতো পেশাজীবীদের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল নিয়ে একটি সিন্ডিকেট অরাজকতা তৈরি করছিল। নতুন অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবেই অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, আপাতত সতর্ক করা হলেও পরবর্তীতে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অ্যাপটি আরও উন্নত করার কাজ চলছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে রাজশাহীর এই ডিজিটাল পদক্ষেপ একটি মাইলফলক হতে পারে। তবে রেশনিং পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি পেশাজীবীদের বিশেষ চাহিদার বিষয়টি আমলে নেওয়া হলে এই উদ্যোগ আরও বেশি সর্বজনীন ও কার্যকর হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারিই পারে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.