× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ট্রাংকে হাত-পা বাঁধা লাশ

নীল পিকআপের ‘দশ মিনিট’ যেভাবে উন্মোচন করল খুনের রহস্য

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩২ পিএম । আপডেটঃ ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৩ পিএম

১ এপ্রিল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া সেই নীল পিকআপ ভ্যান।ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যান, জনশূন্য রাস্তার মোড় এবং মাত্র দশ মিনিটের রহস্যময় উপস্থিতি—এই তিনের সমীকরণেই মিলেছে শেরপুরের শ্রীবরদীতে উদ্ধার হওয়া নারী হত্যার রোমহর্ষক জট। গত ১ এপ্রিল শ্রীবরদীর পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ট্রাংক থেকে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা লাশের পরিচয় শনাক্তের পর, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বের করে এনেছে কীভাবে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে দেড় শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এক নারীর নিথর দেহ এসে পৌঁছাল নির্জন রাস্তার মোড়ে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে মুহূর্তের ক্ষোভ আর দীর্ঘ পরিকল্পনার এক শীতল আখ্যান।

১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদীর ঢালিবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে স্থানীয়দের চোখে পড়ে একটি তালাবদ্ধ বড় ট্রাংক। মালিকহীন সেই ভারী বাক্সের তালা ভাঙতেই বেরিয়ে আসে বীভৎস দৃশ্য—তোশকে মোড়ানো হাত-পা বাঁধা এক নারীর অর্ধগলিত দেহ। পিবিআই দ্রুত প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডলি আক্তার (৩৫), যিনি পেশায় ছিলেন একজন পোশাকশ্রমিক।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ মিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরা। ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যান ট্রাংক নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করছে এবং ঠিক ৯টা ৩৫ মিনিটে ট্রাংক ছাড়াই দ্রুত প্রস্থান করছে। এই দশ মিনিটের নিখুঁত ব্যবধানই ছিল খুনিদের রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় ক্লু। পিবিআই জামালপুর ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, গাড়ির নিবন্ধনের সূত্র ধরে কিস্তি ক্রেতা ও চালক আশরাফ আলীকে শনাক্ত করার মাধ্যমেই পুরো রহস্যের জাল উন্মোচিত হয়।

তদন্তে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে ডলি আক্তারকে নিজের বাসায় নিয়ে যান নিয়ামুর নাহিদ। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ডলি চিৎকার করলে লোকলজ্জার ভয়ে নাহিদ তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে নাহিদের স্ত্রী রিক্তা মনি কর্মস্থল থেকে ফিরলে দুজন মিলে লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন। বাজার থেকে একটি প্লেনশিটের ট্রাংক কিনে ডলির হাত-পা বেঁধে তোশকে মুড়িয়ে তাতে ভরে ফেলা হয়। ভাড়া করা সেই নীল পিকআপে করে মধ্যরাতে রওনা হয়ে সকালে শ্রীবরদীতে লাশ ফেলে আবার গাজীপুরে ফিরে যান তাঁরা।

পিবিআইয়ের তৎপরতায় চালক আশরাফের তথ্যের ভিত্তিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে নাহিদ ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। নিহত ডলির ভাই শফিকুল ইসলামের দায়ের করা হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে এখন আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

একটি তুচ্ছ কথাকাটাকাটি কীভাবে একটি পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নিতে পারে এবং অপরাধ আড়াল করতে কতটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়, এই ঘটনা তার এক ভয়ংকর উদাহরণ। তবে অপরাধীরা যতই কৌশলী হোক, সিসিটিভি ফুটেজের সেই ‘দশ মিনিট’ প্রমাণ করে দিল যে—প্রযুক্তির এই যুগে সত্যকে চিরতরে আড়াল করা অসম্ভব। নিভৃত পল্লীর সেই নীল পিকআপই আজ ডলি আক্তারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রধান সোপান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.