রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকায় অবস্থিত অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র গ্রিন লাইফ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ব্যস্ততম এই হাসপাতালে আগুন লাগার সংবাদে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ( ৮ এপ্রিল ) দুপুরে হাসপাতালের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হাসপাতালের ভেতরে থাকা কয়েকশ রোগী ও তাঁদের স্বজনরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অনেক রোগীকে হাসপাতাল থেকে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, দুপুর নাগাদ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন। তবে হাসপাতালের সংকীর্ণ পথ এবং উৎসুক জনতা অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কাজ পরিচালনায় কিছুটা প্রতিকূলতা সৃষ্টি করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা হাসপাতালের যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় কিছু রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
হাসপাতালের সামনে অবস্থানরত একজন রোগীর স্বজন জানান, "হঠাৎ করে চিৎকার আর ধোঁয়া দেখে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। প্রিয়জনকে নিয়ে নিচে নেমে আসা ছিল এক ভয়াবহ যুদ্ধ।" বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
জনবহুল রাজধানীর গ্রিন রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা পুনরায় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমন পথের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।