রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় হার্ডওয়্যার সামগ্রী বিক্রির আড়ালে মরণঘাতী দেশীয় অস্ত্রের রমরমা ব্যবসার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন এলাকায় এক অভিযানে ৬৪টি ধারালো ও ভোঁতা অস্ত্রসহ ছয়জন ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মোবাইল কোর্ট। জনবহুল এই এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সুইচ গিয়ার ও শক গানের মতো ভয়ংকর সরঞ্জাম বিক্রির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ মার্চ সন্ধ্যা সাতটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পশ্চিম পাশে স্বর্ণ মার্কেট লিংক রোড এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সেখানে অস্থায়ী দোকানগুলোতে সাধারণ সরঞ্জামের আড়ালে অপরাধীদের কাছে এসব অস্ত্র বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযানে জব্দকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩৫টি সুইচ গিয়ার, ১৩টি চাকু, ৩টি চাইনিজ কুড়াল, ৫টি শক গান ও ৫টি মেটাল পাঞ্জা। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্র মূলত নগরীতে ছিনতাই, রাহাজানি ও কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহৃত হতো।
ঘটনাস্থল থেকে ইদ্রিস আলী (৪২), রুহুল আমিন (৪০), জহিরুল ইসলাম (২৯), ফিরোজ উদ্দিন (৩৭), শাহজাহান (২৯) ও রাশেদুল ইসলামকে (২০) আটক করা হয়। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ ও পল্টন থানার সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংশ্লিষ্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন মারণাস্ত্রের কেনাবেচা রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের অভিযান কেবল অপরাধ দমনই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে এই মারণাস্ত্রের উৎস ও সরবরাহ চেইন পুরোপুরি বন্ধ করতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।