ভোররাতের নিস্তব্ধতা চিরে যখন আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়েছিল, তখন পাহাড়ের শান্ত জনপদ দীঘিনালার বোয়ালখালী নতুন বাজারে নেমে আসে এক বিভীষিকা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক দশকের শ্রম আর স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার এই প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাতে লাগা এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাজারের একটি গলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি এবং বাতাসের তীব্রতায় মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্বিতীয় ও তৃতীয় গলিতে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বাজার এলাকায় যখন শোরগোল শুরু হয়, ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে চলে গেছে সারিবদ্ধ স্বর্ণের দোকান, কাপড়ের গদি ও নিত্যপণ্যের গুদাম।
খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি সদর থেকে আসা অতিরিক্ত একটি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যায় ৩৫টিরও বেশি দোকান।
বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, "সবকিছু চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল। একেকটি দোকান ছিল একেকটি পরিবারের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। আমরা প্রাথমিকভাবে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছি, তবে এই নিঃস্ব হওয়ার হিসাব টাকায় পরিমাপ করা অসম্ভব।"
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও, ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন, এখন পাওনাদার আর জীবিকার চিন্তায় তারা দিশেহারা।