প্রায় ছয় ঘণ্টার প্রাণপণ প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে পদ্মা নদী থেকে টেনে তোলা হচ্ছে সৌহার্দ্য পরিবহনের সেই অভিশপ্ত বাসটি। ছবি: সংগৃহীত
এক মুহূর্তের যান্ত্রিক বিভ্রাট নাকি নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস—সেই তর্কে এখন আর কারো আগ্রহ নেই, চারদিকে কেবল স্বজন হারানোর গগনবিদারী আর্তনাদ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে নদীগর্ভ থেকে ঘাতক বাসটি টেনে তোলা হলে বেরিয়ে আসে একের পর এক নিথর দেহ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অবুঝ শিশু থেকে শুরু করে নারী ও পুরুষও রয়েছেন।
বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি ফেরির অপেক্ষায় পন্টুনে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সালামের বর্ণনামতে, ফেরি ঘাটে ভেড়ামাত্রই বাসটি আচমকা চলতে শুরু করে এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সপাটে আছড়ে পড়ে প্রমত্তা পদ্মায়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় যখন বাসটি উপরে তোলা হয়, তখন চারপাশের বাতাসে লাশের ঘ্রাণ আর কান্নার রোল ভারী হয়ে ওঠে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার করা লাশের মধ্যে তিনজন শিশু এবং ছয়জন নারী রয়েছেন। এর আগে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রীয় শোক
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেলিফোনে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্যের দায়ভার নিরূপণ করবে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে মাত্র ছয়জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ওঠে বাসটিতে। কাউন্টার মাস্টারের তথ্যমতে, বাসে ঠিক কতজন ছিলেন তার নিখুঁত হিসেব না থাকলেও প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে পদ্মার ঢেউ একসময় যাত্রীদের মনে দোলা দিত, সেই পদ্মাই আজ কেড়ে নিল অসংখ্য সাজানো সংসার আর রঙিন স্বপ্ন। নদীর পাড়ে এখনো অনেক স্বজন নির্বাক দাঁড়িয়ে আছেন, যদি অলৌকিক কোনো খবর পাওয়া যায়—এই ক্ষীণ আশায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
