× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পদ্মা দেখাতে মেয়েকে নিয়ে নেমেছিলেন বাবা, বাসে রয়ে গেলেন স্ত্রী ও সাত মাসের শিশু

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ এএম । আপডেটঃ ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১৯ এএম

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধারের দৃশ্য। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে মুহূর্তের অসতর্কতায় তছনছ হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় একবিংশ শতাব্দীর এক চরম ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলেন ঢাকার মিরপুরের একটি হাসপাতালের কর্মী নুরুজ্জামান। চার বছরের মেয়েকে নদী দেখাতে বাস থেকে নেমেছিলেন তিনি, কিন্তু চোখের পলকেই সাত মাসের সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাসটি তলিয়ে যায় পদ্মার অতলে।

বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি। বাসের ভেতরে সাত মাসের শিশু নাজিফ বিন জামানকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি দূর করতে এবং চার বছরের মেয়ে নূরে জান্নাতকে নদী দেখাতে বাস থেকে নামেন নুরুজ্জামান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক বা চালকের ত্রুটিতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সপাটে নদীতে পড়ে যায়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুঠোফোনে নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার কণ্ঠে ছিল এক দিশেহারা আর্তনাদ। চার বছরের মেয়েকে বুকে চেপে পদ্মাপাড়ের অন্ধকারে তিনি প্রহর গুনছেন স্ত্রী ও কোলের শিশুর কোনো খবরের আশায়। নুরুজ্জামান বলেন, "বাসটি চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে গেল, কিছুই করতে পারলাম না।"

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর টার্মিনাল থেকে বিকেল ২টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করেছিল বাসটি। কাউন্টারমাস্টারের দেওয়া তথ্যমতে, বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী ওঠানোর পর বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন খোকসা উপজেলার গিয়াস উদ্দিন রিপন ও তার পরিবার। ঈদের ছুটি কাটিয়ে তারা ফিরছিলেন ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায়। গিয়াসের শ্যালক রাকিব হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় গিয়াস, তার স্ত্রী ও এক ছেলে প্রাণে বাঁচলেও ১৩ বছরের মেয়ে আয়েশা বিনতে গিয়াস এখনো নিখোঁজ রয়েছে। একটি আনন্দময় পারিবারিক সফর নিমেষেই রূপ নিয়েছে গভীর শোকে।

পন্টুন থেকে বাস সরাসরি নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালালেও নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আশা সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে আসছে। এক নুরুজ্জামান বা এক গিয়াস উদ্দিনের হাহাকার এখন পদ্মার বিশালতার মাঝে এক বিমূর্ত শোকগাথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.