সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুই লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের আরও একজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতের অন্ধকার ও বৈরী পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চটি পন্টুনের কাছে একটি ট্রলার থেকে যাত্রী তুলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামক একটি লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্থির থাকা লঞ্চটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই লঞ্চের প্রচণ্ড সংঘর্ষের মাঝে পড়ে অন্তত দুজন যাত্রী পিষ্ট হন। তাদের মধ্যে একজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে ছিটকে পড়েন।
নিহত যুবকের নাম মো. সোহেল (২২), যার বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পর সোহেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সোহেলের শাশুড়ি রুবা ফকির আহত হলেও তার শ্বশুর মিরাজ ফকির এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারটির আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা শিহাব সরকার জানিয়েছেন, "বিকেল থেকে তল্লাশি চালানো হলেও অন্ধকার নেমে আসায় এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রাত পৌনে নয়টার দিকে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোরে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।"
সদরঘাটে বারবার এমন সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। লঞ্চ দুটির চালকের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।