বগুড়া ঈদের আগমুহূর্তে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের আনন্দযাত্রায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। বগুড়ার আদমদীঘিতে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারীগামী ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে প্রবেশের কিছুক্ষণ আগে বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ৯টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়লে আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করেন, যার ফলে আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলা হাসপাতাল এবং আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রেলপথের বেহাল দশা এবং পূর্ববর্তী ত্রুটিকে এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রেললাইনে আগে থেকেই কারিগরি ত্রুটি ছিল। তিনি বলেন, “আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস বেলা আড়াইটার দিকে সান্তাহার প্ল্যাটফর্মের অদূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়েছে, তবে সেটি পৌঁছাতে ও লাইন স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।”
ঈদের ঠিক কয়েক দিন আগে উত্তরবঙ্গের সাথে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। সান্তাহার ও আশেপাশের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে একাধিক ট্রেন। তীব্র গরম আর অনিশ্চয়তার মধ্যে শিশু ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ বলে ধারণা করা হচ্ছে।