ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। ট্রেনের জানালায় উৎসুক চোখে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে এক শিশু। শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষার এমন এক মুহূর্ত। ছবি: ন্যাশনাল ট্রিবিউন
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ার চিরচেনা জনস্রোত এখনো আছড়ে পড়েনি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। উৎসবের আগাম বার্তায় স্টেশনে যাত্রীদের আনাগোনা বাড়লেও রবিবার সকাল পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের যাত্রা ছিল মোটের ওপর স্বস্তিদায়ক। দুই-একটি ট্রেন সামান্য বিলম্বে চললেও সিংহভাগ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবার বিকেলের পর থেকেই শুরু হতে পারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোতে অন্যান্য সময়ের মতো ভিড় থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, যান্ত্রিক বা অন্যান্য কারণে সকালে ‘তিতাস কমিউটার’ ৩০ মিনিট এবং চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি ট্রেন ৫০ মিনিট বিলম্বে যাত্রা শুরু করেছে। তবে বাকি সব ট্রেনের সূচি ছিল একদম স্বাভাবিক। তার মতে, "জনস্রোত এখনো শুরু না হওয়ায় আমরা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছি।"
এবারের ঈদযাত্রায় রেলওয়ের সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ হলো টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—‘যার টিকিট নেই, তার প্রবেশ নেই’। অতীতে টিকিটহীন যাত্রীদের জরিমানা করে ট্রেনে ওঠার সুযোগ দেওয়া হলেও এবার সেই পথ প্রায় রুদ্ধ। মূলত যারা আগেভাগে টিকিট কেটেছেন, তাদের ভোগান্তি কমানো এবং কামরার ভেতর বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই মার্জিত কিন্তু কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলের প্রতি মানুষের আকাশচুম্বী আগ্রহের বিপরীতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। এবারের ঈদে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ অনলাইনে টিকিটের জন্য আবেদন করলেও রেলওয়ের দৈনিক সক্ষমতা মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার। এ প্রসঙ্গে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, "মানুষের প্রবল আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করে, কিন্তু পর্যাপ্ত কোচ ও ইঞ্জিনের অভাবে আমরা সবাইকে সেবা দিতে পারছি না। সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে রেল ট্র্যাকের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।"
স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী আরিফ খান ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কপথের যানজট আর অনিশ্চয়তার চেয়ে ট্রেনের বিলম্বও অনেক সময় মেনে নেওয়া যায়। তিনি বলেন, "পরিবার নিয়ে ট্রেনে চড়লে একটা মানসিক প্রশান্তি থাকে। ট্রেন যখন চলতে শুরু করে, তখন দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি ধুয়ে যায় স্বস্তিতে।" তবে সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তির এই যুগে রেলের সেবার মান ও ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হোক।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, ১৬ তারিখের সম্ভাব্য ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
বিষয় : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঈদুল ফিতর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
