প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানাতে মোংলা উপজেলা মাঠে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ। পাশাপাশি সারিবদ্ধ ৯টি খাটিয়া যেন এক পরিবারের দীর্ঘশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত
যে বাড়িতে আজ নহবতের সুরে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই লাশের সারি আর স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ। বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বর আহাদুর রহমান সাব্বিরসহ এক পরিবারের ৯ সদস্যকে শেষ বিদায় জানাল মোংলাবাসী। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌর সরকারি কবরস্থানে সারিবদ্ধ ৯টি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাঁদের।
শুক্রবার সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে থেকেই পুরো এলাকা এক শোকাতুর জনপদে পরিণত হয়। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জানাজায় অংশ নেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই শোকাবহ ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।” স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ আক্ষেপ করে বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দের জোয়ার থাকার কথা ছিল, সেখানে আজ বিষাদের কালো মেঘ। এই ক্ষতি অপূরণীয়।”
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি এই দুর্ঘটনায় এক লহমায় হারিয়েছেন বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে। নির্বাক জনি ডুকরে কেঁদে উঠে বলছিলেন, “আমার পৃথিবীটা শেষ হয়ে গেল। এক মুহূর্তের আঘাতে সব আপনজন পর হয়ে গেল।”
গত বুধবার খুলনার কয়রায় ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল আহাদুর রহমান সাব্বিরের। বৃহস্পতিবার দুপুরে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ বরযাত্রীর দল যখন মাইক্রোবাসে করে মোংলা ফিরছিলেন, তখনই রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় কালবৈশাখীর মতো আঘাত হানে ঘাতক বাসটি। মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ মাইক্রোবাসের ১৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান।
নিহতদের তালিকায় বর সাব্বির ছাড়াও ছিলেন তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ভাগ্নে সামিউল ফাহিম এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফারহানা ও তাঁদের তিন সন্তান। অন্যদিকে, কনে মার্জিয়া, তাঁর বোন ও নানি-দাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে খুলনার কয়রায়।
পাশাপাশি ৯টি কবর
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে বাবা আব্দুর রাজ্জাকের দাফন সম্পন্ন করার পর একে একে সারিবদ্ধভাবে বাকিদের সমাহিত করা হয়। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই একই পরিবারের ৯ জনের এমন বিদায় মোংলার ইতিহাসে এক কলঙ্কিত শোকের অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
