× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বেপরোয়া ছিনতাই চক্র, খোদ পুলিশ ও শীর্ষ কর্মকর্তারাই এখন রাজপথে ‘অসহায়’

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১২ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ এএম । আপডেটঃ ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ এএম

রাজপথে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। প্রতীকী ছবি

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে এক বিভীষিকাময় জনপদে রূপ নিয়েছে রাজপথ। ছিনতাইকারীদের ধারালো চাপাতির নিচে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা তো বটেই, খোদ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। অস্ত্রের মুখে পুলিশ সদস্যের পিস্তল ছিনতাই থেকে শুরু করে খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে, রাজপথ এখন অপরাধীদের অবাধ চারণভূমি।

গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা এলাকায় এক অভাবনীয় দুঃসাহস দেখিয়েছে ছিনতাইকারীরা। শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তার ব্যবহৃত গুলিভর্তি সরকারি পিস্তলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে অভিযানে পিস্তলটি উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে এই ঘটনাটি খোদ বাহিনীর মনোবলে আঘাত হেনেছে।

এর মাত্র দুদিন আগে রাজধানীতে খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন ছিনতাইয়ের শিকার হন। মোহাম্মদপুরে তারাবি নামাজ শেষে হাঁটাহাঁটির সময় চাপাতির মুখে তাকে মারধর করে আইফোন ও সর্বস্ব লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। প্রশাসনের এমন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অপরাধীদের মধ্যে আইনি ভীতি এখন তলানিতে।

শুধু সরকারি কর্মকর্তারা নন, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা আরও করুণ। বিমানবন্দর এলাকায় প্রবাসীর ব্যাগ ছিনতাই কিংবা জুরাইনে ভ্যানচালক বৃদ্ধ ফয়জুর রহমানকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে জনমনে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারিতে কেবল ঢাকাতেই ৩০৮টি ছিনতাইয়ের অভিযোগ জমা পড়েছে, যার বাস্তব চিত্র হয়তো আরও বহুগুণ বেশি।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, রাজধানীতে আটটি ক্রাইম জোনে ৪৩২টি স্থানকে ‘ছিনতাইপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মিরপুর, তেজগাঁও এবং মতিঝিল এলাকাগুলো অপরাধীদের প্রধান বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৯৭৯ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারী এই মুহূর্তে সক্রিয় রয়েছে, যাদের ৬৫ শতাংশই ব্যবহার করছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. কুদরাত-ই খুদা বাবু মনে করেন, উৎসবের মৌসুমে পুলিশের টহল ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আসন্ন ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, ছিনতাই প্রতিরোধে প্রতিটি থানায় বিশেষ অভিযান ও রাত্রিকালীন টহল বাড়ানো হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে খোদ পুলিশের অস্ত্র ও মহাপরিচালকের ফোন রক্ষা পায় না, সেখানে গভীর রাতে একজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়?


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.