মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেই সুখবর পেল দেশের জ্বালানি খাত। যুদ্ধ শুরুর দশম দিনে আজ সোমবার সকালে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে প্রথম জাহাজ ‘শিউ চি’। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও চারটি বিশাল ট্যাংকার বন্দরে ভিড়বে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘শিউ চি’ বর্তমানে কুতুবদিয়া উপকূলে অবস্থান করছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’ ও চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার রাত থেকে আগামী শনিবারের মধ্যে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে ‘লিয়ান হুয়ান হু’, ‘এসপিটি থেমিস’, ‘র্যাফেলস সামুরাই’ এবং ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’। এশিয়ার বিভিন্ন পরিশোধনাগার থেকে আমদানিকৃত এই বিশাল চালানটি দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ট্যাংকারগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, "নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জাহাজগুলো এক সপ্তাহের মধ্যেই বন্দরে ভিড়বে। জলসীমায় পৌঁছানোর পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।"
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সংকটের যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, তার ফলে হঠাৎ করেই ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৌশলগত কারণে সরকার সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে মজুত সংরক্ষণে জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব মতে, দেশে দৈনিক ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ হাজার টন। বর্তমান আমদানিকৃত জ্বালানি এবং বিদ্যমান মজুত দিয়ে আগামী এক মাসের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, দেশের সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই পূরণ করে ডিজেল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিজেল আমদানিতে বাংলাদেশের প্রধান ভরসা এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানিকৃত ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেলের ৭৮ শতাংশই এসেছে এই তিনটি দেশ থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সরাসরি যুদ্ধাবস্থা থাকলেও আমদানির উৎস ভিন্ন হওয়ায় আপাতত বড় ধরনের সংকটের শঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।