নাটোর বাঁশঝাড়ের নিবিড় ছায়ায় মাটির গভীর স্তর। সেখানে পানির ট্যাংকের আড়ালে সযত্নে লুকানো ছিল হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল। নাটোরের সিংড়ায় এক অসাধু ব্যবসায়ীর এমন এক অভিনব ও ঝুঁকিপূর্ণ মজুতদারির সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার লিটার ডিজেল শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। জনমনে কৃত্রিম সংকট তৈরির এই সুগভীর চক্রান্ত প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সিংড়া বাজারের ‘সততা ট্রেডার্স’-এর মালিক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে তেল মজুতের গোপন সংবাদ পায় প্রশাসন। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত আজ বেলা দুইটার দিকে নিংগুইন এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে আপাতদৃষ্টিতে কোনো গুদাম বা মজুতকেন্দ্রের অস্তিত্ব না থাকলেও মাটি খুঁড়ে দেখা যায় বিস্ময়কর দৃশ্য। বিশালাকার পানির ট্যাংক মাটির নিচে স্থাপন করে তাতে ডিজেল মজুত করে রাখা হয়েছে।
অভিযানের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে ঘটনাস্থলে তলব করা হলে তিনি অবৈধভাবে তেল লুকিয়ে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইউএনও তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব তেল সিংড়া বাজারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে ইউএনও’র সাথে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ উদ্দিন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সাধারণ অনুমতি থাকলেও ওই ব্যবসায়ী কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করেননি। তিনি বলেন, “জনসাধারণকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অধিক মুনাফা লাভের একটি হীন চক্রান্ত ছিল এটি। এ ধরনের অসাধু তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”