× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মজুত আছে, সরবরাহ নেই: পাম্পে পাম্পে ‘তেল নেই’ নোটিশ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৭ মার্চ ২০২৬, ২০:২৯ পিএম । আপডেটঃ ০৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০৫ পিএম

ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার। ছবি: ন্যাশনাল ট্রিবিউন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় টালমাটাল রাজধানী ঢাকা। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজ শনিবারও (৭ মার্চ) ঢাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে তেলের জন্য হাহাকার আর কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ সারি। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের আশ্বাস দেওয়া হলেও, ছুটির দিনে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা দুষছেন নীতিমালার ‘অনমনীয়তাকে’। ফলে একদিকে গুজবের আতঙ্ক, অন্যদিকে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে রাজপথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা।

সরেজমিনে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দেখা গেছে এক নজিরবিহীন দৃশ্য। সংসদ ভবনের পাশের তালুকদার পাম্প থেকে শুরু হওয়া গাড়ির জটলা জিয়ার মাজারের লেক ছাড়িয়ে গেছে। আসাদ গেট ফিলিং স্টেশনের সারি গিয়ে ঠেকেছে প্রিপারেটরি স্কুল পর্যন্ত, আর শাহবাগের মেঘনা পাম্পের সামনে তেলপ্রত্যাশীদের ভিড় ছাড়িয়েছে পিজি হাসপাতালের সীমানা। একেকটি সারি প্রায় এক মাইল দীর্ঘ, যেখানে সুশৃঙ্খল কিন্তু উদগ্রীব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার।

বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সালেহ আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, "গতকাল ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তেল পাইনি। আজ সকাল সকাল বের হয়েও বেলা ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি পাম্প ঘুরেছি। সবখানেই এক কথা—তেল নেই। সরকার বলছে তেল আছে, কিন্তু পাম্পে গেলে কেন পাই না?"

সংকট ঘনীভূত হওয়ার পেছনে জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর ছুটির দিনের নিয়মকে দায়ী করছেন পাম্প মালিকরা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক জানান, সাধারণত শুক্র ও শনিবার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকে। তবে বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়ম শিথিল না করায় সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক নাজমুল হক বলেন, "আমাদের পাম্পে দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে তেল শেষ হয়ে যায়। গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে সরেজমিনে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে আমাদের সত্যিই মজুত নেই। সকাল থেকেই আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি আজকের জন্য বিশেষ সরবরাহ নিশ্চিত করতে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।"

পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গুজবে কান দিয়ে অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই।" অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার জন্যও তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল বিক্রির ওপর সাময়িক নিয়ন্ত্রণারোপ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে। ডিজেলের ক্ষেত্রে বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার ট্রাকের জন্য ১০০ থেকে ১২০ লিটারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যদি মজুত পর্যাপ্তই থাকে, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা কেন স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে না? এই সরবরাহ ঘাটতিই মূলত গুজবকে ডালপালা মেলার সুযোগ দিচ্ছে, যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.