কুয়েত মরুভূমির তপ্ত বালুতে শ্রম দিতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারালেন মো. জাহেদ (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়েতের সলোনি মরুভূমি থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, মরুভূমিতে উট দেখভাল করতে গিয়ে একটি অবিস্ফোরিত স্থলমাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে এই মর্মান্তিক মৃত্যু চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপে তাঁর নিজ গ্রামে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
নিহত জাহেদ সন্দ্বীপ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. কামাল উদ্দিনের সন্তান। সহকর্মীদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার বিকেলে সলোনি মরুভূমিতে উট চরাতে গিয়েছিলেন জাহেদ। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি ফিরে না আসায় উৎকণ্ঠা শুরু হয়। পরদিন ভোরে ওই এলাকায় সহকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে জাহেদের ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের অবশিষ্টাংশ হিসেবে সেখানে থেকে যাওয়া কোনো মাইন অজান্তেই জাহেদের পায়ের চাপে বিস্ফোরিত হয়।
ছেলের অকাল মৃত্যুর সংবাদে পাথর হয়ে গেছেন বাবা কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমার সাজানো সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি—যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। আমি শেষবারের মতো আমার সন্তানকে দেখতে চাই।”
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে গত সোমবার বাহরাইনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের আবুল মহসিন তারেক নামে আরও এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই উপজেলার দুই প্রবাসীর এমন প্রবাসে মৃত্যু সন্দ্বীপবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।