ছাত্ররাজনীতির আঙিনা থেকে জাতীয় সংসদ—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার যবনিকা ঘটল ভারতের কলকাতার এক হাসপাতালে। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম শুক্রবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলকাতার দমদম এলাকার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত এই প্রবীণ রাজনীতিক গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে লড়াই করছিলেন। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে শেষ ছয় দিন তাঁকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থায় (লাইফ সাপোর্ট) রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে (মাল্টি অর্গান ফেইলিওর) তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মৃত্যুকালে শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও কন্যা জাকিয়া ইসলাম। গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন এই লড়াকু ব্যক্তিত্ব। করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পর পর দুই মেয়াদে ভিপি নির্বাচিত হয়ে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান শুরু। পেশায় আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামের সন্তান জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ নিজ জন্মভূমিতেই সমাহিত করতে চায় তাঁর পরিবার। তাঁর ভাই ও যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের সরকারের সঙ্গেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তাঁকে স্বদেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।