খুলনার দিঘলিয়ায় এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সেনহাটি বক্সীবাড়ি কবরস্থানের সন্নিকটে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। নিহত খান মুরাদ সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হাজী গ্রামের বাসিন্দা খান মুনসুর আহমেদের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল মুরাদকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। আত্মরক্ষার তাগিদে তিনি দৌড়ে নিকটস্থ একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তবে সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে পড়ে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাঁটুর নিচের রগ নৃশংসভাবে কেটে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা মুরাদকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি শাহ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। আইন-শৃঙখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।