নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
অন্ধকার রাতের নিস্তব্ধতা চিরে এক বাবার করুণ আকুতি আর অসহায়ত্বের সাক্ষী হয়ে রইল নরসিংদীর মাধবদী। বুধবার রাতে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে বাবার সামনে থেকেই জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে। সারারাত নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলি জমিতে পাওয়া যায় তার নিথর দেহ। ধর্ষণের পর নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই এখন বইছে তীব্র নিন্দার ঝড়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের বীজ বপন হয়েছিল আরও দুই সপ্তাহ আগে। বরিশালের স্থায়ী বাসিন্দা ওই কিশোরীর পরিবার বাবার চাকরির সুবাদে মাধবদীতে ভাড়া বাসায় থাকত। অভিযোগ উঠেছে, দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় বখাটে যুবক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা ও তার সহযোগীরা ওই কিশোরীকে পথ থেকে তুলে নিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করে।
নিরুপায় পরিবারটি বিচারের আশায় স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হন। কিন্তু বিচার পাওয়ার বদলে কপালে জোটে শঙ্কা। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেম্বার অপরাধীদের সাথে রফাদফা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারটিকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে।
হুমকির মুখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুধবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরীকে তার বাবা খালার বাড়িতে রেখে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে প্রধান আসামি নূরার নেতৃত্বে একদল যুবক পথরোধ করে। বাবার অসহায় চোখের সামনে থেকেই কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। পরদিন সকালে ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। নিহতের মা বাদী হয়ে এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যার মধ্যে চারজন ধর্ষক এবং পাঁচজন বিতর্কিত সালিশকারী।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শুক্রবার রাতে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, পুলিশের একাধিক টিম সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান পরিচালনা করছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং অন্যতম সহযোগী হযরত আলীকে কুমিল্লা থেকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিতর্কিত সালিশকারী বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ান ও তার ছেলেও রয়েছেন। আদালত তাঁদের রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, "ঘটনাটি আগে ঘটলেও পরিবারটি থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে হয়তো আজ এই মর্মান্তিক মৃত্যু দেখতে হতো না।" তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা বখাটেদের ভয়ে সাধারণ মানুষ থানায় যেতে সাহসী হয় না। ময়নাতদন্ত শেষে নিহত কিশোরীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সবার একটাই দাবি—দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিষয় : আইন শৃঙ্খলা নারী বাংলাদেশ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
