সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের একদল অনুসারী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ‘মব’ সৃষ্টি করে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হট্টগোলের কারণে সংস্থাটির দাপ্তরিক কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দুদক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ করে সাকিব আল হাসানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে দুদক কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার দাবিতে কর্মকর্তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরেই শোরগোল শুরু হলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনেকটা বাধ্য হয়েই অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, একদল উশৃঙ্খল লোক কার্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয় এবং অভিযোগ গ্রহণে বাধ্য করে। বেনামে দায়ের করা এই অভিযোগটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোনো অভিযোগ জমা পড়লেই তা সরাসরি তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ নেয় না। সংস্থাটির নির্ধারিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী এই অভিযোগটি নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না যায়, তবে এটি সরাসরি বাতিল করা হবে। অন্যথায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
একটি রাষ্ট্রীয় সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় এভাবে দলবেঁধে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাকে ‘অপসংস্কৃতি’ হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং এর কার্যক্রম হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত। এভাবে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে অভিযোগ জমা দেওয়ার ঘটনা সংস্থাটির পেশাদারিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।