× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চিরতরে ফেরা হলো না ফাইজার বাবা-মা ও বোনদের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৬ পিএম । আপডেটঃ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৩ পিএম

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই বোন মোহনা ও সুবাহর সঙ্গে ফাইজা (বাঁয়ে)। —ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

ওমরাহ শেষে পবিত্র নগরী থেকে ফেরার পথে এক নিমিষেই তছনছ হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। বিদেশের মাটিতে বাবা-মা আর দুই বোনকে চিরদিনের মতো হারিয়ে নিথর এক বিষণ্নতা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরল আট বছরের ছোট্ট ফাইজা। শরীরে এখনো দুর্ঘটনার দগদগে ক্ষত, মনেও রয়েছে সেই বিভীষিকার ছাপ। তবে চরম সত্যটি এখনো তার অজানা—যে পরিবারের সঙ্গে সে ঈদ উদ্‌যাপনের স্বপ্ন দেখছে, তারা আর কোনোদিন ফিরবে না।

আজ সোমবার সকালে সৌদি আরব থেকে মামার হাত ধরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় ফাইজা। রামগঞ্জ টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্রীর চোখেমুখে এখনো সেই ভয়াল রাতের আতঙ্ক। হাঁটাচলায় কষ্টের ছাপ স্পষ্ট, আর অস্বাভাবিক নীরবতা বলে দিচ্ছে তার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের কথা। ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত তিনটার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে ওমরাহ শেষে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ফাইজার বাবা মিজানুর রহমান (৪২), মা মেহের আফরোজ সুমি (৩০), বড় বোন মোহনা (১৩) ও মাত্র দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহ।

বড়দের পৃথিবী ভেঙে গেছে তা এখনো বুঝতে পারেনি ফাইজা। স্বজনরা তাকে জানিয়েছেন, বাবা-মা আর বোনেরা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুপুরে বাড়িতে আসা সংবাদকর্মীদের কাছে ফাইজা খুব সরল বিশ্বাসে বলছিল, “বাবা-মা সুস্থ হয়ে শিগগিরই বাড়ি ফিরবে। আমরা সবাই মিলে এবার অনেক বড় করে ঈদ করব। বাবা আমাকে আর বোনদের মেলায় নিয়ে যাবে।” ফাইজার মুখে ঈদের আনন্দের কথা শুনে উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখে জল এলেও সত্যটা জানানোর সাহস পাননি কেউ।

ফাইজার মামা তানভীর হোসেন জানান, পুরো আকাশপথ ফাইজা একদম নিস্তব্ধ ছিল। মাঝেমধ্যে মা-বাবার কথা জিজ্ঞেস করলেও এক সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ফাইজা ফিরে আসলেও তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ এখনো জেদ্দার একটি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। প্রিয়জনদের নিথর দেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা।

নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়িতে এখন কেবলই কান্নার রোল। পাড়া-প্রতিবেশী সবাই আসছেন ফাইজাকে দেখতে, কিন্তু এই নিঃসঙ্গ শিশুর ভবিষ্যৎ আর তার অবুঝ প্রশ্নের কী উত্তর হবে—তা জানা নেই কারও।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.