নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং অবৈধভাবে টাকা বিতরণের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব অবহেলার দায়ে এক পোলিং অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব সাজা প্রদান করেন।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের প্রস্তুতিকালে হাবিবুর রহমান (৬৩) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকাসহ ১২টি খাম জব্দ করা হয়। লালবাগ বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন এবং জব্দকৃত অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।
মিরপুরের শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের দায়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দুই এজেন্ট মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেনকে (২৩) দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। কাফরুল থানার পুলিশ জানায়, পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামের সহায়তায় তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই পোলিং অফিসারকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওয়ারী বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সন্তোষজনক কারণ ছাড়া ঘোরাফেরা করার অপরাধে দুজনকে যথাক্রমে এক মাস ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া মতিঝিল বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান মুগদা থানার একটি ঘটনায় দুজনকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেন। ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ৭৫ ধারায় পুলিশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করায় এই সাজা প্রদান করা হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।