রাজধানীর মুগদায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যান ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মুগদা থানা পুলিশ। এসময় ডাকাতি হওয়া পিকআপের কেটে ফেলা অংশবিশেষ এবং বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র উদ্ধার করা হয়। ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামালপুরের ব্যবসায়ী মো. মুন্না মিয়া প্রায় ১০ লক্ষ টাকার অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-৯২৫৮) জামালপুর ফিরছিলেন। রাত দেড়টার দিকে মুগদার টিটিপাড়া সিএনজি পাম্পের সামনে পৌঁছালে একটি কালো রঙের হাইস মাইক্রোবাস তাদের পথরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে নামা ৮-১০ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চায়। একপর্যায়ে চালক আল আমিন ও মালিক মুন্না মিয়াকে মারধর করে হাত-চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয় এবং পরে খিলগাঁও ফ্লাইওভারে ফেলে দিয়ে ডাকাতরা মালামালসহ পিকআপটি নিয়ে চম্পট দেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মুগদা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মো. সাখাওয়াত হোসেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকার ‘নজরুল বডি বিল্ডার্স’ নামক গ্যারেজে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পিকআপ গাড়িটি কেটে টুকরো করা অবস্থায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. রাব্বি (২৩), মো. রুমান (২৭), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) ও মো. পলাশ ওরফে হাসান (৩২)। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৫ ডাকাত সদস্য মো. কাদির (৫০), মো. হাসান আলী (৪০), মো. আব্দুল হালিম (৩০), মো. মামুনুর রশিদ (৪২) এবং মো. নয়ন বেপারীকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে ডাকাতদের হেফাজত থেকে ডাকাতি হওয়া পিকআপ ভ্যানটির কেটে ফেলা সম্পূর্ণ অংশ এবং বড় তিনটি ডেক-পাতিল, কলস ও জগসহ বেশ কিছু অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে কালো হাইস মাইক্রোবাস ব্যবহার করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। চক্রের প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।