চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মুখে আরও ১২ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। দাফতরিক প্রয়োজনে বদলির কথা বলা হলেও আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে মোট ১৬ জনকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে বদলি করা হলো।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এই ১২ জনকে বদলি করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জরুরি দাফতরিক ও অপারেশনাল কাজের প্রয়োজনে তাদের বদলি করা হয়েছে।
প্রথম আদেশে সাতজনকে বদলি করা হয়, যাদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপো এবং তিনজনকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিটি) পদায়ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় আদেশের মাধ্যমে আরও পাঁচজনকে পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়। বদলি হওয়া এই ১২ কর্মচারীকে আজ সোমবারের (২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত শনিবার একই অভিযোগে আরও চার কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দরের সাধারণ কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। রোববার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দীর্ঘ আট ঘণ্টার এই কর্মবিরতির ফলে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে, যাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিকেল ৪টার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে পুনরায় কাজ শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ দাফতরিক প্রয়োজনে এবং কাজের গতিশীলতা আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।