গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে শ্রীপুর-মাস্টারবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের দক্ষিণ ভাংনাহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ভাংনাহাটি এলাকার 'লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেড' কারখানার শ্রমিকেরা ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল বুধবার থেকেই কর্মবিরতি পালন করছিলেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালেও শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন। কিন্তু দুপুরের পরও বেতন না পাওয়ায় বিকেলে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে শ্রীপুর-মাস্টারবাড়ি সড়ক অবরোধ করেন।
সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ১৬ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ মোট ৩০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিকুল ইসলাম জানান, "আহত অন্তত ১৬ জন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।"
অন্যদিকে, শিল্প পুলিশের শ্রীপুর সাব-জোনের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, "শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রাবার বুলেট ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।"
এ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।