শারমিন একাডেমির অফিস কক্ষে শিশুটিকে আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপক। সিসিটিভি ফুটেজ
রাজধানীর নয়াপল্টনে 'শারমিন একাডেমি' নামক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রি-প্লে শ্রেণির এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের অফিস কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপক পলাতক রয়েছেন।
-69725bf085076.jpg)
নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে গভীর মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মা জানান, ঘুমের ঘোরেও শিশুটি চিৎকার করে বলছে, “আমার মুখ সিলি (সেলাই) করে দিও না, আমি আর স্কুলে যাব না।” মা-বাবা আবার স্কুলে পাঠিয়ে দেন কি না, সেই আতঙ্কে শিশুটি এখন তাদের কাছে থাকতেও ভয় পাচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভর্তি হওয়া শিশুটির ওপর এমন নৃশংসতা দেখে হতভম্ব তার পরিবার।
-69725bb7e9eff.jpg)
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের পোশাক পরা শিশুটিকে নিয়ে অফিস কক্ষে ঢোকেন প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান। ঢুকেই তিনি শিশুটিকে চড় মারেন। এরপরই রুমের ভেতরে থাকা ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার শিশুটির ওপর চড়াও হন। কখনো গলা টিপে ধরা, কখনো মুখ চেপে ধরা, এমনকি হাতে স্ট্যাপলার নিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি ভয়ে বা কান্নায় শিক্ষিকার শাড়িতে থুতু ফেললে, পবিত্র কুমার শিশুটির মাথা জোরপূর্বক সেই স্থানে চেপে ধরেন এবং কয়েকবার ঝাঁকি দেন।
পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেখানে নির্যাতনের ভয়াবহতা দৃশ্যমান। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা করেছেন। এই ধারায় শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দায়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারটি শুরুতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। পুলিশ তাদের সাহস জোগানোর পর তারা মামলা করেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি বন্ধে কঠোর নীতিমালা থাকলেও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কম। তিনি সমাজের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতাকে শিশুদের ওপর এমন সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ টু এন্ড অল করপোরাল পানিশমেন্ট (জিআই) এবং বিইউএইচএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে প্রায় ৫৬ শতাংশ শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো না কোনোভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহিংসতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বড় বাধা এবং একটি অসুস্থ প্রজন্ম তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিষয় : রাজধানী শিশু নির্যাতন শিশু
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
