রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির দোতলার ডাইনিং রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গত শুক্রবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে শিশুসহ দুই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান জানান, ভবনমালিক জুয়েল মোল্লা দোতলা ও তিনতলা জুড়ে ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকতেন। আগুনের সূত্রপাত হয় দোতলার ডাইনিং রুম থেকে। ফ্ল্যাটের ভেতরে কাঠের সিঁড়ি থাকায় আগুন দ্রুত তিনতলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচুর ধোঁয়া তৈরি হয়। তবে রান্নাঘর তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার পর আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাদের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার বাসিন্দারা নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন। পথিমধ্যে প্রচুর কালো ধোঁয়া তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকে পড়লে তারা অচেতন হয়ে পড়েন।
নিহতরা হলেন—পঞ্চম তলার বাসিন্দা এসকেএফ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি, তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও দুই বছরের সন্তান কাজী ফাইয়াজ। অপর পরিবারটির সদস্য ফল ব্যবসায়ী হারেছ উদ্দিন, তাঁর সন্তান রাহাব উদ্দিন ও ভাতিজি রোদেলা আক্তার।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, যারা দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে ছিলেন, তারা নিরাপদ ছিলেন। কিন্তু যারা ছাদের গেট বন্ধ দেখে ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা খোলা রেখে ভেতরে ঢুকেছিলেন, তারাই ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে তালা কেটে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা ৬ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সময় ভবনমালিক সপরিবারে বাইরে থাকায় তারা অক্ষত আছেন। ভবনটির অন্যান্য বাসিন্দারা এখনো আতঙ্ক কাটিয়ে বাসায় ফেরেননি। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সম্পন্ন করেছে। আহত সাতজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।