ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা প্রদান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত অবমাননার অভিযোগে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের ইউপি-১ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রমে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছেন। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) উপস্থিতিতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে তিনি অসদাচরণ করেন এবং আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বিরূপ মন্তব্য করেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইনবহির্ভূত এবং জনস্বার্থের পরিপন্থি। ফলে ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯’-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে কলমাকান্দার লেংগুড়া বাজারে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিতব্য একটি মার্কেটে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান। অভিযান চলাকালে পারভেজ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হলে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উগ্র মেজাজে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “মোবাইল কোর্ট করতে আমার অনুমতি লাগবে।” তার এমন অপেশাদার ও দাম্ভিক আচরণ সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়, যা শেষ পর্যন্ত তার বরখাস্তের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।