× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গেই বসবাস ঘাতক শিক্ষিকার

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪৯ পিএম । আপডেটঃ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪৯ পিএম

নিহত মা রোকেয়া রহমান (৩২) ও মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক গৃহশিক্ষিকার বাসা থেকে নিখোঁজের ২১ দিন পর মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর ২১ দিন ধরে লাশের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন ঘাতক দুই বোন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জোবায়দা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার ছোট বোন নুসরাত জাহানকে (১৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রোকেয়া ও ঘাতক মীম প্রতিবেশী ছিলেন। মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিলে রোকেয়া সেখানে জামিনদার হন। কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিও থেকে রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চরম তিক্ততা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রাইভেট পড়তে আসা ফাতেমাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করে মীমের বোন নুসরাত। সিসিটিভি ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে ফাতেমার পোশাক পরে নুসরাত বাসা থেকে বের হয়ে যান, যাতে মনে হয় ফাতেমা চলে গেছে। এরপর অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে মা রোকেয়াকে বাসায় ডেকে এনে দুই বোন মিলে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করতে ফাতেমার মরদেহ বাথরুমের ফলস ছাদে এবং মায়ের মরদেহ বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মরদেহের দুর্গন্ধের মধ্যেই ২১ দিন ওই বাসায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন মীম ও তার পরিবার। এমনকি গত ৬ জানুয়ারি ৩ বছরের ছেলের জন্মদিন পালন করতে সপরিবারে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘুরেও আসেন তারা। বাসায় দুর্গন্ধ ছড়ালে মীম তার স্বামীকে বলতেন, বাইরে মরা কুকুরের গন্ধ আসছে। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার স্বামী সন্দেহবশত ঘর তল্লাশি করতে গিয়ে খাটের নিচে মরদেহ দেখে চিৎকার শুরু করলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

নিহত রোকেয়ার স্বামী ও আইনজীবী সহকারী শাহীন আহমেদ পুলিশের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, স্ত্রী-সন্তান নিখোঁজের পর ২৭ ডিসেম্বর জিডি এবং ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা করলেও পুলিশ মীম আক্তারের ফ্ল্যাটটি তল্লাশি করেনি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ বা কললিস্টও বিশ্লেষণ করা হয়নি। তার দাবি, পুলিশ শুরুতেই সক্রিয় হলে হয়তো লাশগুলো পচে যাওয়ার আগেই পাওয়া যেত। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, গ্রেফতার হওয়া মীম ও নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি নুসরাত নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে’ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.