কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে (পরিত্যক্ত মালামাল রাখার স্থান) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার রাত ৯টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ১১টা) আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের ১০ জন কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরবর্তীতে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস থেকেও আরও দুটি ইউনিট মাতারবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মাতারবাড়ী ইউনিটের টিম লিডার সালাহ উদ্দিন জানান, মাতারবাড়ী টাউনশিপের একটি খোলা জায়গায় এই স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি অবস্থিত। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কাঠ, টিন ও লোহার রডসহ বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত মালামাল স্তূপ করে রাখা ছিল। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কিছু জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, অসতর্কভাবে ফেলে দেওয়া সিগারেটের টুকরো থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে প্রায়ই বহিরাগতরা সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে এই ইয়ার্ডে মালামাল চুরি করতে প্রবেশ করে। তাদের মাধ্যমেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ফায়ার সার্ভিস।
মাতারবাড়ী এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী আমজাদ হোসেন বলেন, "রাত সোয়া ৯টার দিকে টাউনশিপ এলাকার গুদাম থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখি। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে রাত ১০টার দিকে তারা এসে কাজ শুরু করে। কিন্তু মালামালের স্তূপ বড় হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে।"
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডস্থলটি মূল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে হওয়ায় প্ল্যান্টের কোনো সরাসরি ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে ইয়ার্ডে থাকা মালামালের বড় একটি অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।