× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত মিলবে: মন্তব্যের জেরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩০

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৯ পিএম । আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৫৫ পিএম

ভোলার লালমোহনে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের পর রায়চাঁদবাজারে থমথমে পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তর্কের জেরে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নৌবাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে রমাগঞ্জ ইউনিয়নে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই বৈঠকে ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্য প্রদান করা হয়। এ নিয়ে বিকেলে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে রায়চাঁদবাজার সংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে জমা করা ইটের টুকরো নিয়ে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষ চলাকালীন একপক্ষ নৌবাহিনীর গাড়িতেও হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৯-১০ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর রাত ৯টায় লালমোহন উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিডিপি মহাসচিব নিজামুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, সকালে এক নারী কর্মীকে বিএনপি কর্মী রুবেল কর্তৃক লাঞ্ছিত করার ঘটনা থেকে ঝামেলার সূত্রপাত। তিনি আরও দাবি করেন, রাতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কার্যালয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির প্রায় দুই শতাধিক কর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, যাতে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

পাল্টা অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল বলেন, “জামায়াত নেতারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’ এমন অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আমি বিকেলে সমঝোতা করে আসার পরও রাতে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।” তিনি দাবি করেন, জামায়াতের হামলায় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ তাদের ১৫-১৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা হামলার নির্দেশের অভিযোগটি তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম জানান, সকালের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কাজ ও ‘বেহেশতের টিকিট’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে শোনা যাচ্ছে। বাজারের সংস্কারাধীন রাস্তার ইট ব্যবহার করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ ও নৌবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ না দিলেও আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.